নিজস্ব প্রতিবেদক
বৈশাখী মেলাকে সামনে রেখে ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার হাইলাকাঠী এলাকায় ঐতিহ্যবাহী শীতলপাটি বুননের ব্যস্ততা বেড়েছে। বিশেষ করে ১২ বৈশাখ চট্টগ্রামের লালদিঘির পাড়ে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক জব্বারের বলি খেলার মেলাকে কেন্দ্র করে কারিগররা দিন-রাত কাজ করছেন।
এলাকার প্রায় শতাধিক পরিবার শীতলপাটি তৈরির সঙ্গে জড়িত। নারী-পুরুষ সবাই মিলে এখন পাটি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বৈশাখকে ঘিরেই তাদের বছরের সবচেয়ে বড় আয়ের সুযোগ তৈরি হয়।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একটি পাটি তৈরির প্রক্রিয়া দীর্ঘ ও শ্রমসাধ্য। একটি পাইতরা গাছ পরিপক্ক হতে প্রায় এক বছর সময় লাগে। প্রতিটি পোন (৮০টি) পাইতরা ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় কিনতে হয়। একটি পাইতরা থেকে ১২ থেকে ২০টি বেতি তৈরি করা যায়। পরে সেগুলো ভাতের মাড় ও পানির মিশ্রণে কয়েকদিন ভিজিয়ে রেখে পরিষ্কার করে রোদে শুকানো হয়। শুকানোর পর রং দিয়ে শুরু হয় বুননের কাজ। একটি পাটি বুনতে সময় লাগে চার থেকে পাঁচ দিন।
স্থানীয় পাটিশিল্পী কৃষ্ণ চন্দ্র দাস বলেন, একটি পাটি তৈরি করতে অনেক পরিশ্রম করতে হয়। কিন্তু সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি করতে হয়। এতে আমরা ন্যায্য মূল্য পাই না।
পাটিশ্রমিক তুলসী রানী বলেন, আমরা কষ্ট করে পাটি তৈরি করি, কিন্তু মধ্যস্বত্বভোগীরা কম দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কারিগররা কোনো ধরনের সরকারি অনুদান বা সহায়তা পান না। আর্থিক সংকটে পড়লে স্থানীয় মহাজনের কাছ থেকে দাদন নিতে হয়। ফলে পাটি তৈরি হওয়ার পর সেই মহাজনের কাছেই কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হন তারা। সরাসরি বাজারে বিক্রি করতে পারলে বেশি দাম পাওয়ার সুযোগ থাকলেও তা সম্ভব হচ্ছে না।
পাইকার জুবাল চন্দ্র জানান, চট্টগ্রামের লালদিঘির মাঠে ১২ বৈশাখে অনুষ্ঠিত জব্বারের বলি খেলার মেলায় তারা প্রায় দুই কোটি টাকার পাটি নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। তবে মেলায় অব্যবস্থাপনার কারণে বিক্রি নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, সহজ ঋণ সুবিধা, বাজার ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণ করা গেলে শীতলপাটি শিল্প টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে।
রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রীফাত আরা মৌরী বলেন, শীতলপাটি বুননের সঙ্গে যারা যুক্ত রয়েছেন, তাদের সঙ্গে কথা বলে সমস্যাগুলো সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে।